ঋণের ইএমআই কী?
ইএমআই (Equated Monthly Installment) হলো ঋণ পরিশোধের জন্য প্রতি কিস্তিতে দেওয়া নির্দিষ্ট অর্থ। প্রতিটি কিস্তিতে কিছুটা সুদ ও কিছুটা মূল পরিশোধ হয়। বকেয়া কমার সঙ্গে সুদের অংশ কমে এবং মূলের অংশ বাড়ে।
রিডিউসিং ব্যালেন্স বনাম ফ্ল্যাট রেট
রিডিউসিং ব্যালেন্সে সুদ শুধু বকেয়া অংশের উপর ধরা হয়। ফ্ল্যাট রেটে পুরো মেয়াদের জন্য মূল ঋণের উপর সুদ গণনা হয় — আপনি বেশিরভাগ পরিশোধ করার পরও। ১২% একই প্রদর্শিত হারে ফ্ল্যাট রেট ঋণে প্রকৃত সুদ প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। চুক্তির আগে ঋণদাতাকে প্রকৃত বার্ষিক হার জিজ্ঞাসা করুন।
ঋণের মেয়াদ কীভাবে ঠিক করবেন
মেয়াদ বেশি হলে কিস্তি ছোট হয় কিন্তু মোট সুদ বাড়ে। মেয়াদ কম হলে কিস্তি বড় হয় কিন্তু মোট সুদ কমে। সাধারণ নিয়ম: আপনার মোট মাসিক ঋণের কিস্তি (সব ঋণ মিলিয়ে) আয়ের ৪০%-এর বেশি হওয়া উচিত নয়।
বাংলাদেশী ব্যাংকের ঋণের হার তুলনা
| ব্যাংক | পার্সোনাল | হোম | কার |
|---|---|---|---|
| ডাচ-বাংলা ব্যাংক | ১২.৫% | ৯.৫% | ১০% |
| ব্র্যাক ব্যাংক | ১৩% | ১০% | ১০.৫% |
| সিটি ব্যাংক | ১২% | ৯.৭৫% | ১০% |
| ইস্টার্ন ব্যাংক | ১২.৫% | ১০% | ১০.৫% |
| প্রাইম ব্যাংক | ১৩% | ১০.৫% | ১১% |
| আইএফআইসি ব্যাংক | ১২.৫% | ১০% | ১১% |
| স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড | ১১.৫% | ৯.৫% | ১০% |
| এইচএসবিসি বাংলাদেশ | ১২% | ৯.৭৫% | — |
| আইডিএলসি ফাইন্যান্স | ১৩% | ১১% | ১১.৫% |
| লঙ্কা বাংলা ফাইন্যান্স | ১৩.৫% | ১১.২৫% | ১১.৫% |
প্রদর্শিত হার সাময়িক ধারণা — আবেদনের আগে ব্যাংকের সঙ্গে যাচাই করুন।
প্রি-পেমেন্ট ও ফোরক্লোজার নিয়ম
বেশিরভাগ বাংলাদেশী ব্যাংক নিয়মিত ৬–১২ মাস কিস্তির পর আংশিক প্রি-পেমেন্ট অনুমতি দেয়। ফোরক্লোজার (সম্পূর্ণ আগাম পরিশোধ) সাধারণত বকেয়ার ১–২% চার্জ নেয়। মাইক্রোফাইন্যান্স ও এনবিএফআই ঋণে নিয়ম কঠোর হতে পারে — চুক্তি ভালোভাবে পড়ুন।